পঞ্চাশতম অধ্যায়

উত্তর বনভূমির অদ্ভুত কাহিনী অযোগ্য ব্যক্তি 3605শব্দ 2026-03-06 00:31:15

কখনোই বিনা কারণে ভালোবাসা কিংবা ঘৃণা জন্ম নেয় না। এই মঙ্গোল চিকিৎসকও নিশ্চয়ই সাধু নন, তিনি কেবল আমার কল্পিত ‘离魂之症’–এর কারণে ছোট্ট দৈত্যকে নিয়ে আমাদের ওপর কিঞ্চিৎ শ্রদ্ধার দৃষ্টি ফেলেছেন। সত্যি বলতে, এইরকম বাজারি মনোভাব আমার মোটেও ভালো লাগে না; তার নিজের মত করে আমাদের তার বাড়িতে আশ্রয় দিতে চাওয়া, আমার পছন্দের নয়। তবে, লোক দেখানো উষ্ণতা এমনভাবে মানুষকে জড়িয়ে ধরে যে, তাতে প্রত্যাখ্যান করা কঠিন হয়ে পড়ে।

许府–র দরজায় হালকা কথা বলে,凝雪–কে আমার গন্তব্য জানিয়ে, আমি চিকিৎসকের সঙ্গে রওনা দিলাম। দক্ষিণের জলবায়ু বসন্তের মতো উষ্ণ, আমি মা 沈小花–এর হাতে সেলাই করা মোটা তুলার জামা–প্যান্ট পরে福州 শহরের পথে হাঁটছি। মানুষের কৌতূহলী দৃষ্টির মধ্যে দিয়ে অবশেষে পৌঁছলাম মঙ্গোল চিকিৎসকের চিকিৎসালয়ে।

চিকিৎসক যথেষ্ট মনোযোগী, আগেভাগেই খাবার প্রস্তুত রেখেছেন; শুধু খেতে দিলেন, কোনো প্রসঙ্গ তুললেন না—এটা আমার ধারণার চেয়ে অনেক ভালো। আমি তো ভেবেছিলাম, তিনি ছোট্ট দৈত্যকে চেপে ধরে পরীক্ষা করবেন। কিন্তু ছোট্ট দৈত্য তার যত্ন করে প্রস্তুতকৃত খাবারে আগ্রহ দেখাল না, সবটাই আমার দখলে চলে এল।

চিকিৎসকের বাড়ি সর্বদা নানা ধরণের ভেষজের গন্ধে ভরা। চিকিৎসকও মনে হয় বর্ষীয়ান, দাড়ি সাদা, প্রকৃত মধ্যচীনা চিকিৎসক। আমি হাসি দিয়ে বললাম, এখানে বাস করলে কেউ কখনো অসুস্থ হবে না। চিকিৎসক বিষণ্ণ হাসলেন, আমাদের নিয়ে পেছনের উঠোনে চলে গেলেন—সম্ভবত তার পরিবারের অন্তঃপুর। দরজার পর্দা সরিয়ে ঢুকতেই দেখি, সামনের বিছানায় এক মধ্যবয়সী নারী বাঁধা, চুল অগোছালো, মুখ মলিন।

আমরা ঢুকতেই নারী চোখ তোলেননি, কিছু বকছেন। চিকিৎসক এগিয়ে গিয়ে কোমল হাতে তার চুল ঠিক করে দিলেন, নারী তার দিকে নির্বোধ হাসি দিলেন।

এরপর ওই নারীকে দেখে চিকিৎসকের অতিরিক্ত উষ্ণতার কারণ বুঝলাম। মনের ভার কিছুটা হালকা হলো—তিনি আসলে নিজের স্ত্রীর রোগ সারাতে চান, ঈশ্বরের খ্যাতি অর্জনের উদ্দেশ্য নয়। চিকিৎসক দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়ে বললেন, ‘‘আমার স্ত্রীর হঠাৎ এক বছর আগে অদ্ভুত রোগ দেখা দিল—প্রথমে নিজে নিজে কথা বলত, পরে পরিবারের কাউকে চিনত না। আমি福州 শহরের নামকরা চিকিৎসক হয়েও কিছু করতে পারিনি। দিন দিন তার রোগ বাড়ছে...’’ কথা শেষ না করে স্ত্রীকে জড়িয়ে কেঁদে উঠলেন।

আমি কিছুই জানি না। বললে হয়তো ভূত–প্রেতের ব্যাপার, আবার তা–ও নয়। মানসিক গোলযোগ—উত্তরের ‘স্নায়বিক রোগ’–এর মতো। এ রোগ আমি সারাতে পারি না। চিকিৎসক নিশ্চয়ই ছোট্ট দৈত্য মরেও ফিরেছে দেখে আশার আলো দেখছেন; অসহায় হয়ে যে কোনো কিছুর ওপর নির্ভর করছেন, জানতে চাইছেন ছোট্ট দৈত্য কীভাবে সুস্থ হয়ে উঠেছে।

আমি বললাম, ‘‘চিকিৎসক, আপনি কি আমার ভাইয়ের পদ্ধতি দিয়ে আপনার স্ত্রীর চিকিৎসা করতে চান? আপনাকে হতাশ হতে হবে। আমার ভাই জন্ম থেকেই এমন, সর্বোচ্চ সাত দিন মৃত অবস্থায় ছিল; বাড়ির লোক কবর খুঁড়ে রেখেছিল, মা–বাবা মাটি দিতে পারেননি—তার মুখ–রঙ জীবনের মতোই, কবর দিতে মন চায়নি। সাত দিন পর সে নিজেই জেগে উঠল। কেউ জানে না, কীভাবে।’’

চিকিৎসকের উৎসাহ কম দেখে বুঝলাম, এখন বিদায়ের সময়। তিনি আমাদের এগিয়ে দিলেন না, দুঃখে ডুবে আছেন।

许府–তে ফিরতে ফিরতে রাত কালো হয়ে গেল।凝雪 শুনে আমাদের পাশে আসলেন, কিছুক্ষণ গল্প করলেন। স্পষ্টই দেখলাম, তার মন অন্য কোথাও; চোখে চোখে ছোট্ট দৈত্যকে লক্ষ করছেন। আমি চিন্তিত হলাম।

এ অপবিত্র বন্ধন কখনোই জন্ম নিতে দেয়া যাবে না।凝雪 ভালো মেয়ে, ছোট্ট দৈত্যের মতো বাঁকা গাছের গোঁড়ায় বাঁধা থাকা উচিত নয়।

তাছাড়া, ছোট্ট দৈত্য তো কাঠের মতো নিরস; ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলে না—কোনো আকর্ষণও নেই।凝雪 রাতের খাবারও আমাদের সঙ্গে খেলেন, দেখলেন ছোট্ট দৈত্য সবকিছুতেই আমাকে জিজ্ঞাসা করে, তাকে পাত্তা দেয় না;凝雪–র চোখে হতাশার ছায়া। খাওয়া শেষে আমাদের দ্রুত বিশ্রামের পরামর্শ দিয়ে চলে গেলেন小姐–র শোবার ঘরে।

রাত গভীর হলে许府–র কোলাহল নিস্তব্ধ।凝雪 ও七小姐–র অনুগ্রহে আমি কৃতজ্ঞ; আমার স্বভাব, অজানা কিছু রেখে দিলে চিরজীবন মনে দাগ থেকে যায়। তাই আগেভাগেই五通庙–র পথ জানিয়ে রেখেছিলাম। ছোট্ট দৈত্যের হাত ধরে মনে মনে御风决–র মন্ত্র জপতে জপতে, শরীরকে বাতাসে পরিণত করে许府–র বাইরে এলাম। শুরুতে শরীরের নিয়ন্ত্রণ ঠিক ছিল না, ছোট্ট দৈত্য ভয়ে আমার হাত শক্ত করে ধরল; বাতাসের প্রতিকূলতায় শরীর ভারি হয়ে প্রায় পড়েই যাচ্ছিলাম।御风决–র অনুশীলনে দক্ষ বলে ঠিকই সামলে নিলাম; কিছু সময়ের মধ্যেই গতি বাড়ল।

御风决 এবং流光咒—উভয়ই দ্রুত চলার মন্ত্র।流光咒–তে প্রচুর শক্তি লাগে, তবে মুহূর্তেই শত মাইল পেরোনো যায়—সহজে ব্যবহার করি না।御风决–তে কেবল মন্ত্র জপলেই শরীর বাতাসের মতো চলে যায়, কোনো ক্লান্তি নেই—দ্রুত যাত্রায় উপযুক্ত।

五通庙–র রাতের অন্ধকারে আলো জ্বলছে, ধূপের গন্ধ উড়ছে, উৎসবমুখর। আমি কোণায় নামলাম, ভেতরে চুপিচুপি নজর রাখছি। ছোট্ট দৈত্য মাটিতে পড়তেই কাঁপতে কাঁপতে লুকিয়ে থাকতে চাইল। মৃতের স্বভাব বুঝতে পেরে সে ভীত, আমি জানি সে ভয়ে আমার হাত শক্ত করে ধরে রেখেছে; না হলে সে আমাকে ফেলে পালাত।

五通庙–র উপরে হালকা ভূত–দৈত্যের আভাস, আমি নাহলে টেরই পেতাম না। বিস্মিত হয়ে ভাবলাম, মন্দির তো সাধারণত পবিত্র, এখানে কেন দৈত্য–গন্ধ ছড়িয়ে আছে?

প্রধান মন্দিরে গিয়ে সতর্কভাবে ছাদ থেকে একটি টালি সরিয়ে নিচে তাকালাম। মাঝখানে পাঁচটি বিশাল প্রতিমা, মেঘ–কুয়াশায় ঢাকা—মুখ স্পষ্ট নয়, তবে মাথার উপর থেকে ঘন দৈত্য–গন্ধ বের হচ্ছে। তখনই বুঝলাম আসল রহস্য—এই五通神 আসলে দেবতা নন; দেবতার নাম ভেঙ্গে দৈত্যরা প্রতিমা গড়েছে, লোকের ধূপ–পূজা উপভোগ করছে। প্রতিমাগুলো আসলে পাঁচটি দৈত্য—তাই তারা অদৃশ্য হয়ে থাকতে পারে, মানুষের পূজায় তারা নিজেদের দৈত্য–গন্ধ মুছে ফেলেছে।

আমি হালকা কুয়াশা সরিয়ে দেখি, প্রতিমার চোখ জীবিত মানুষের মতো চকচক করছে, অশুভ আলো জ্বলে উঠেছে। বহু বছর দেবতার ছদ্মবেশে থেকেও আসল স্বভাব বদলায়নি; হয়তো বহু নারীকে বিভ্রান্ত করেছে। আমি সতর্ক, শব্দ না করে থাকলাম—এটা তো তাদের গড়, জানি না কী বিপদ আছে; একা বলে সাবধান থাকতে হবে।

ছোট্ট দৈত্যের শক্তি ধার নিয়ে নিজেকে অদৃশ্য মন্ত্রে ঢেকে, দৈত্য–গন্ধ অনুসরণ করে, পিছনের অট্টালিকার দিকে এগোলাম। মন্দিরে বেশি সন্ন্যাসী নেই, পথে তেমন কাউকে পেলাম না, সহজেই এড়িয়ে গেলাম। চাঁদের দরজা পেরিয়ে পৌঁছলাম পিছনের উঠোনে। চোখ যেন হঠাৎ খুলে গেল—নতুন দৃশ্য।

পেছনের উঠোনে আলাদা জগৎ—বাইরে রাত, এখানে দিনের আলো; কোমল সূর্যের মতো কিছু উপরে, তবে উত্তাপ নেই। সবুজ গাছ, দিঘি–ব্রিজ, দূরে কিছু সাদা–পাখি নাচছে, ফুলের মাঝে বড় বড় গোলাপী প্রজাপতি দোল দিচ্ছে। উঁচু গাছের ছায়ায় পাঁচজন সুশ্রী, সাদা পোশাকের যুবক—কেউ বাঁশি বাজাচ্ছে, কেউ বীণা, কেউ কবিতা আবৃত্তি করছে; যেন পরীক্ষার্থী–দের জমায়েত। রূপার পাত্রে রক্ত–রঙের মদ ঢালা, একে একে পান করছে; মুখে仙曲 গাইছে, ‘‘আমি নেশায় ঘুমাতে চাই,’’ বলে আকাশের নিচেই শুয়ে পড়ছে। যেন দেবতাদের স্বরূপ—দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়; অথচ তারা কীভাবে এমন অশুভ কাজ করতে পারে!

শুনি, একজন বলল, ‘‘元三哥, পরশু তোমার নির্ধারিত শেষ সময়,许家–তে কোনো খবর আছে?’’

মাঝখানে পানরত ব্যক্তি বললেন, ‘‘谢谢五弟, তারা সাধারণ মানুষ, আমাদের মতো উপকারীদের সঙ্গে কীভাবে বিরোধ করবে! চিন্তা কোরো না, সময় হলে মেয়েকে এনে আমাদের ভাইদের উপভোগে দেবে, হা হা।’’

কাছের একজন বলল, ‘‘七小姐–র সৌন্দর্য যেন মন–ভোলানো; আমাদের ভাইদের কারো চোখ ঠান্ডা হয়নি।元三–র মান রাখার জন্যই ব্যবহার করা হয়নি; কাল মেয়েকে আনলে, আমরা পালাক্রমে ভোগ করব—মেয়েটা বেঁচে থাকলে ফিরিয়ে দেব, তাতে ক্ষতি কী?’’ তার কথায় অশ্লীল হাসি। মুহূর্তেই আমার দেবতাদের–রূপের বিভ্রম ভেঙ্গে গেল। দৈত্যেরা নির্লজ্জ।

সবচেয়ে গম্ভীর ব্যক্তি বললেন, ‘‘ভাইয়েরা, আমার মনে অশান্তি—কিছু ঘটতে যাচ্ছে। বরং আমাদের আগে দূরে থাকি, পরে七小姐–কে আনি।’’

দৈত্যেরা হেসে বলল, ‘‘白大哥–র সাধনা বেশি, সাহস কম কেন?许家–তাদের উপকার করেছি, মেয়েটাও মৃত্যুর পর আমাদের পাঠানো। শুধু ফিরিয়ে আনছি, এতে কী? আর কে আমাদের ভয় দেখাবে? রাগলে আগুনে পুড়িয়ে দেব।’’

আমি天眼–র শক্তি নিয়ে তাদের দিকে তাকালাম।

দুনিয়ায় এমন দৈত্যেরা সাধনায় পারদর্শী। ছোট্ট দৈত্যের সাত অংশ শক্তি ধার নিয়ে দেখি元三哥–র আসল রূপ কচ্ছপ।胡老四–র আসল রূপ খেমচি। বাকিরাও নিশ্চয়ই একই ধরনের দৈত্য—কিছু পশু, মানুষের রূপে শত বছর দেবতা সেজে আছে।

সব বুঝে নিয়ে পালানোর উপায় ভাবছি। পাঁচ দৈত্য একত্রে, প্রতিটি আমার চেয়ে অনেক শক্তিশালী—পরিপূর্ণ কৌশল দরকার। গোপনে বাতাসের ঝড় তুললাম, উঠোনের ফুল–পাতা উড়তে শুরু করলো, পরক্ষণে দৈত্যেরা ফুলের ঝড়ের মাঝে আটকা পড়ল। সবাই বলল, ‘‘অসাধারণ!白大哥, চলুন আমরা কবিতা বলি।’’

胡老四 বলল, ‘‘ভাইয়েরা, আমি নতুন ছন্দ পেয়েছি, আগে বলি, সবাই শুনুন।’’

সবাই প্রশংসা করল, ‘‘四弟–র প্রতিভা অসাধারণ!’’

আমি মনে মনে হাসলাম, ‘‘দৈত্যেরা, পরে দেখব তোমরা কত শান্তিতে থাকো।’’

বাতাস বাড়তে লাগল, ফুল–পাতা কোনো মাটিতে পড়ল না।白大哥 হঠাৎ বললেন, ‘‘三弟, এই বাতাস কি তুমি তুলেছ?’’元三哥 বললেন, ‘‘না।’’白大哥–র মুখ বদলে গেল, ‘‘মন্দ, সাধারণ বাতাস নয়, চলো পালাই।’’

আমি শব্দ ছড়িয়ে দিলাম, তারা যেন আমার অবস্থান না পায়; উচ্চকণ্ঠে বললাম, ‘‘একদল নির্বোধ দৈত্য, এখন বুঝেছ, তবু দেরি; আগামী বছর আজই তোমাদের মৃত্যু দিবস, হা হা!’’ কথা শেষ করে বাতাসে烈火符 ছুঁড়ে দিলাম; মুহূর্তেই আকাশে লাল আগুন ছড়িয়ে পড়ল, চারদিকে দৈত্যেরা ঘিরে গেল।

আগুনে পাঁচটি সাদা আলো ছুটে গেল, দৈত্যেরা আগুন পার হয়ে পালাল—কিংকর্তব্যবিমূঢ়, চারদিকে খুঁজছে কারা আগুন লাগিয়েছে।

আগুন যতই প্রবল দেখাক, জানি এ দুনিয়ার আগুন দৈত্যের ক্ষতি করতে পারে না; কেবল তাদের অহংকার ভাঙার জন্য। কিন্তু দৈত্যদের পোশাক জ্বলে উঠল, তারা চিৎকার করে পালাল—সম্ভবত বিলাস–বিলাসে নিজেদের ক্ষমতা ভুলে গেছে। বাইরে এসে তারা হঠাৎ কিছু মনে পড়ল; একসাথে ছুটে আগুনে ঢুকল—

‘‘আমার焦尾琴, আমার吴王笙... তুমি কে, আমাদের ধন ধ্বংস করলে, এবার তোমার প্রাণ নিয়ে নেব!’’ দৈত্যেরা আগুনে লাফিয়ে পড়ে, দগ্ধ সঙ্গীত–যন্ত্র জড়িয়ে চিৎকার করছে। আমি ইতিমধ্যেই ঝড়ের গতিতে দশ–পনেরো মাইল দূরে পালিয়ে এসেছি, থামতে সাহস নেই—একটু দৈত্যের শক্তি টেনে নিয়ে আমার পিছু নিয়েছে; কিছুতেই ছাড়তে পারছি না, আরও দশ–পনেরো মাইল ছুটে শেষে মাটিতে নামলাম।

ঠিক তখনই, দেখি সাদা ছায়া হঠাৎ মাটিতে নেমে এল—কথা কম বলে এমন白大哥–ই। সে ঠাণ্ডা হাসিমুখে বলল, ‘‘দেখি, তুমি আর কত দূরে পালাতে পারো?’’