অধ্যায় একত্রিশ মাত্র আট মিলিয়ন
প্রেমিক?
সু তুংলিয়ের মুখে স্পষ্ট বিস্ময়, তবে কি এটাই সেই সুখবর, যার কথা সু গোচিয়াং বলেছিলেন?
তবু তিনি সঙ্গে সঙ্গে কিছু জিজ্ঞেস করলেন না, ধৈর্য ধরে শুনতে লাগলেন।
সু জিযুয়েত দু’বার কাশলেন, গলা পরিষ্কার করলেন, ‘‘আমার নতুন প্রেমিকের নাম ওয়াং তাও, আমাদের দংহাই শহরের বিখ্যাত দংহাই ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি, ওটাই ওদের পারিবারিক ব্যবসা।’’
‘‘আমি আমাদের পরিবারের অবস্থা আমার প্রেমিককে বলেছি, সে খুব উদার মন-মানুষ, সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী মাস থেকেই তাদের ওষুধের সব প্যাকেজিং আমাদের কোম্পানিকে দেবে।’’
সু জিযুয়েত গর্বভরে বুক চিতিয়ে দাঁড়ালেন, যেন এই সাফল্যে তিনি নিজেই উজ্জ্বল।
কোম্পানির এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আর থাকতে না পেরে জিজ্ঞেস করলেন, ‘‘জিযুয়েত, তোমার প্রেমিক তো বলল, কত টাকার অর্ডার দেবে?’’
সু জিযুয়েত আঙুল দিয়ে আট দেখালেন, ‘‘বেশি না, মাত্র আশি লাখ।’’
‘‘যদিও এতে আমাদের কোম্পানি পুরোপুরি উদ্ধার হবে না, অন্তত জরুরি পরিস্থিতিটা সামাল দেওয়া যাবে।’’
এ কথা শুনে সম্মেলন কক্ষ যেন উল্লাসে ফেটে পড়ল।
‘‘জিযুয়েত, তোমার জন্য সত্যিই গর্বিত! এমন যোগ্য প্রেমিক পেয়েছো, সত্যিই হিংসে হয়!’’
‘‘হিংসে করে লাভ কী? জিযুয়েত তো দেখতে এত সুন্দর, এমন চমৎকার প্রেমিক পাওয়াটা স্বাভাবিক!’’
‘‘এবার তো হল, জিযুয়েতের প্রেমিক আছে, এবার থেকে দংহাই ফার্মাসিউটিক্যালের সব অর্ডার আমাদের কোম্পানির হাতেই আসবে!’’
‘‘এ কথা আর বলতে? যদি ওরা অন্য কোম্পানিকে দিতে চায়, তাহলে জিযুয়েত গিয়ে ঝামেলা করবে, হা হা!’’
সু তুংলিয়ের মুখের ভাঁজও ধীরে ধীরে কমে এল।
যদিও দংহাই ফার্মাসিউটিক্যালের আশি লাখের অর্ডার আনশান গ্রুপের তুলনায় দশ ভাগের এক ভাগ, তবে আনশান গ্রুপেরটা তো মরীচিকা ছাড়া কিছু নয়।
কিন্তু দংহাই ফার্মাসিউটিক্যালের সঙ্গে এই সম্পর্কটা পাকা বলেই ধরে নেওয়া যায়।
সু তুংলিয়ে বললেন, ‘‘জিযুয়েত, কবে তোমার প্রেমিককে বাড়িতে ডেকে খাওয়াবে? আমাদের পরিবারের সবাই তার সঙ্গে পরিচিত হবে।’’
সু জিযুয়েত হাসলেন, ‘‘দাদু, আমার প্রেমিক এখনই আমাদের কোম্পানির লবিতে বসে আছে, আমরা ঠিক করেছি অফিস শেষে একসঙ্গে সিনেমা দেখতে যাব।’’
সু তুংলিয়ের মুখে বিস্ময়ের ছাপ, ‘‘আহা! তোমার কি এতটুকু বোধ নেই? কাউকে এভাবে একা বসিয়ে রাখা যায়? তাড়াতাড়ি গিয়ে ভেতরে নিয়ে এসো!’’
সু জিযুয়েত নাটকীয়ভাবে বললেন, ‘‘কিছু হবে না, ওয়াং তাও আমাকে খুবই ভালোবাসে, তাকে একটু অপেক্ষা করাতে দোষ নেই।’’
‘‘না, এটা চলবে না!’’
সু তুংলিয়ে কর্তৃত্বের সুরে বললেন, ‘‘এখনই ওয়াং সাহেবকে নিয়ে এসো, আমি তাকে সামনে থেকে ধন্যবাদ দিতে চাই!’’
সু গোচিয়াংও ভান করলেন, ‘‘তোমার দাদুর কথা ঠিকই, তুমি বড্ড অবোধ, ওয়াং সাহেব তোমাকে যতই ভালোবাসুক, এমন বেয়াদবি করা উচিত নয়।’’
‘‘তাড়াতাড়ি গিয়ে ভেতরে নিয়ে এসো!’’
‘‘আচ্ছা।’’
সু জিযুয়েত অনিচ্ছাভরে বললেন, কাঁধ দুলিয়ে বেরিয়ে গেলেন কক্ষ থেকে।
‘‘জিযুয়েতের ভাগ্য দেখো, কেমন ব্যাকগ্রাউন্ড আর যত্নশীল প্রেমিক পেয়েছে!’’
‘‘ঠিক বলেছো, আমার প্রেমিক যদি অর্ধেকও এমন হতো, ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে হাসতাম!’’
সু জিযুয়েত বেরিয়ে যেতেই সবাই ফিসফিসিয়ে আলোচনা শুরু করল।
সু তুংলিয়ের মন এখন খুব ভালো, তিনি কারও কথায় বাধা দিলেন না।
সু গোফু মন খারাপ করে চুপচাপ বসে রইলেন, চারপাশের আনন্দের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।
ভাবেন, শেষ পর্যন্ত আবারও সু গোচিয়াং সব কৃতিত্ব কুড়িয়ে নিল।
এবার দাদুর মনোযোগও ওর দিকেই যাবে, সু পরিবারের ভবিষ্যতের ক্ষমতায় নিজের কোনো অংশ থাকল না।
অল্পক্ষণ পরে, সু জিযুয়েত এক জন খাটো, মোটা লোকের হাত ধরে ফিরে এলেন।
ওয়াং তাওর উচ্চতা এক মিটার ষাটের একটু ওপরে, ওজন অন্তত দুই কুইন্টাল, সু জিযুয়েত হাই হিল পরে তার পাশে দাঁড়ালে, প্রায় আধ মাথা লম্বা।
কিন্তু ওর গায়ে মাথা থেকে পা পর্যন্ত শুধু নামী ব্র্যান্ডের পোশাক, কব্জিতে যে ঘড়ি, সেটার দাম কয়েক লাখ তো হবেই।
সু জিযুয়েত গর্বভরে ওয়াং তাওর বাহু আঁকড়ে পরিচয় করিয়ে দিলেন, ‘‘এই আমার প্রেমিক, দংহাই ফার্মাসিউটিক্যালের ভবিষ্যৎ কর্ণধার, ওয়াং তাও।’’
সঙ্গে সঙ্গে কক্ষে তুমুল করতালি বেজে উঠল, ওয়াং তাও হাসিমুখে সবার সঙ্গে অভিবাদন করলেন।
সু তুংলিয়ে তাড়াতাড়ি এগিয়ে এসে হাত ধরলেন, ‘‘ওয়াং সাহেব, এলেন তো আগেই জানাতে পারতেন, একটু অভ্যর্থনার ব্যবস্থা করতাম।’’
ওয়াং তাও হাসলেন, ‘‘এত আনুষ্ঠানিকতার কী দরকার, আমি তো শুধু জিযুয়েতকে নিতে এসেছি, ভেতরে এসে কাউকে বিরক্ত করার ইচ্ছে ছিল না।’’
সু তুংলিয়ে ভান করে রাগ দেখালেন, ‘‘এ কথা বললে তো আমি কষ্ট পাবো! আমরা তো এখন একটা পরিবার, এতে বিরক্তির কী আছে!’’
‘‘কেউ আছো? তাড়াতাড়ি ওয়াং সাহেবকে চা দাও, আমার সেরা দার্জিলিং চা আনো!’’
ওয়াং তাও হালকা হাসলেন, ‘‘আপনি বেশি কৃতজ্ঞ হচ্ছেন।’’
সু তুংলিয়ে হাত নেড়ে বললেন, ‘‘ওয়াং সাহেব আমাদের কোম্পানিকে আশি লাখ টাকার অর্ডার দিচ্ছেন, আমরা যত কৃতজ্ঞ হই, কমই হবে।’’
তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ্যে বললেন, সত্যিই জিযুয়েত যা বলেছেন, তা ঠিক কিনা যাচাই করতে।
এটা শুধু নাতনির প্রতি অনাস্থা নয়, বিষয়টা কোম্পানির অস্তিত্বের প্রশ্ন, এখানে ভুল করা চলে না।
কিন্তু ওয়াং তাও নির্বিকারভাবে হাত নাড়লেন, ‘‘এতে কিছুই আসে যায় না, জিযুয়েত এখন আমার প্রেমিকা, আমাদের পরিবারের অর্ডার স্বাভাবিকভাবেই শুধু আপনাদের কোম্পানিকেই যাবে।’’
সু তুংলিয়ে আনন্দে উজ্জ্বল, বুঝলেন, জিযুয়েত মিথ্যা বলেননি।
‘‘হা হা, জিযুয়েত, ওয়াং সাহেবের কথা শুনলে তো? সম্পর্ক ভালো রাখো, আর যেন খামখেয়ালি কাণ্ড না করো।’’
সু জিযুয়েত মৃদু পায়ে মেঝেতে চাপ দিলেন, মুখে কষ্টের ছাপ, ‘‘দাদু, আমি তো কিছু করিনি!’’
ওয়াং তাওও হাসিমুখে বললেন, ‘‘এটা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, জিযুয়েত কিছু করেনি।’’
‘‘এসো, বসো, ঠিক সময়েই এসেছো, আমরা এখন উচ্চপর্যায়ের সভা করছি, ওয়াং সাহেব একটু দিকনির্দেশনা দিন...’’
সু তুংলিয়ের কথা শেষ হওয়ার আগেই দরজার কাছে হঠাৎ কড়া স্বর শোনা গেল।
‘‘মোটে আশি লাখ টাকার অর্ডার, এতে এত ঢাকঢোল পেটানোর কী আছে?’’
সমস্ত হাস্যরোল হঠাৎ থেমে গেল, সবাই দরজার দিকে তাকাল।
সু গোফুর ছেলে সু হাওয়ুয়েত হেঁটে কক্ষে ঢুকলেন, সু জিযুয়েতকে অবজ্ঞাভরে বললেন, ‘‘জিযুয়েত, কোম্পানির কথা ভাবার জন্য প্রশংসা প্রাপ্য, কিন্তু আশি লাখ কি খুব কম নয়?’’
সু জিযুয়েত দাঁতে দাঁত চেপে বললেন, ‘‘সু হাওয়ুয়েত, বাজে কথা বলো না! আশি লাখ কম? সাহস থাকলে তুমি এনে দেখাও!’’
সু গোফু আর সু গোচিয়াং দুই ভাই সব সময়ই একে অন্যকে ছোট দেখাতে চান, নিজের মর্যাদা বাড়াতে চান, ছেলেমেয়েদের মধ্যেও সেই প্রতিযোগিতা।
ওয়াং তাওও অস্বস্তিতে তাকিয়ে বললেন, ‘‘এই ভাই, বেশ বড় বড় কথা বলছো, আশি লাখকে তুচ্ছ বলার সাহস কতজনের আছে? তোমার বাড়িতে কত টাকা জমা আছে যে এভাবে কথা বলো?’’
সু হাওয়ুয়েত অবাক হয়ে ওয়াং তাওর দিকে তাকিয়ে মুখ চেপে বললেন, ‘‘ওহ, এখানে তো আরও একজন আছেন! আগে খেয়ালই করিনি, দুঃখিত।’’
‘‘ধুর!’’
ওয়াং তাও মুখ ফসকে গালি দিলেন, তিনি নিজের উচ্চতা নিয়ে ঠাট্টা একদম সহ্য করতে পারেন না।
সু হাওয়ুয়েতের ওই কথা শুনে তার রাগ চড়ে গেল।
হাতা গুটিয়ে, ঝগড়া শুরু করতে যাচ্ছিলেন।
সু তুংলিয়ে তাড়াতাড়ি থামালেন, ‘‘ওয়াং সাহেব, শান্ত থাকুন, রাগ করবেন না।’’
‘‘সু হাওয়ুয়েত, ব্যাপার কী? ওয়াং সাহেব জিযুয়েতের প্রেমিক, আমাদের কোম্পানির সম্মানিত অতিথি, তার সঙ্গে এমন ব্যবহার করা যায়?’’
‘‘এখনই ক্ষমা চাও, না হলে এ মাসের পুরো বেতন কেটে নেওয়া হবে!’’
সু হাওয়ুয়েত বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে হাসলেন, ‘‘দাদু, এত রাগ করবেন না, আগে এটা দেখুন।’’
বলেই তিনি পকেট থেকে একটি ছবি বের করলেন।
ছবিতে দুই তরুণী, দেখে মনে হয় খুবই ঘনিষ্ঠ।
সু তুংলিয়ে অবাক হয়ে বললেন, ‘‘এই ছবিটা কেন দেখাচ্ছো?’’
সু হাওয়ুয়েত একজনকে দেখিয়ে বললেন, ‘‘এটা আমার প্রেমিকা, দাদু, কেমন লাগছে?’’
সু তুংলিয়ে অজান্তে মাথা নেড়েছেন, ‘‘খুব খারাপ নয়, গড়নও...’’
‘‘না, ঠিক নয়!’’
তিনি সঙ্গে সঙ্গে ভুল বুঝে, ‘‘আচ্ছা, বলো, ছবিটা দেখানোর মানে কী?’’
বাকি সবাইও কৌতূহলী চোখে তাকাল, কেউই বুঝতে পারছিল না, তিনি কী বোঝাতে চাইছেন।
সু হাওয়ুয়েত আবারো বললেন, ‘‘আরেকজন, সে আমার প্রেমিকার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী, ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে বড় হয়েছে।’’
সু জিযুয়েত আর সহ্য করতে পারলেন না, ‘‘সু হাওয়ুয়েত, তুমি আসলে কী বোঝাতে চাও? এখানে এসব নাটক করে কী লাভ?’’
সু গোচিয়াংও ঠাণ্ডা গলায় বললেন, ‘‘ভাই, এভাবেই কি ছেলেকে শিক্ষিত করেছো? বাবার সঙ্গেও ঠাট্টা করতে সাহস, বাহ!’’
সু গোফু বোঝেননি ঠিক কী হচ্ছে, তবে জানেন, তাঁর ছেলে বিনা কারণে কিছু করে না, নিশ্চয়ই কোনো যুক্তি আছে।
সু তুংলিয়ের মুখ কালো, এত লোকের সামনে না হলে অনেক আগেই শাস্তি দিতেন।
সু হাওয়ুয়েত বুঝলেন, সময় হয়েছে, শান্ত গলায় বললেন, ‘‘ও, একটা কথা বলা হয়নি, আমার প্রেমিকার বান্ধবী আসলে আনশান গ্রুপের আন কো’এর সেক্রেটারি।’’
তিনি চারপাশে তাকিয়ে বললেন, ‘‘দু’জনের সম্পর্ক যদিও অফিসিয়ালি বস-সাবর্ডিনেট, কিন্তু কয়েক বছরে সম্পর্ক খুব গভীর।’’
সু হাওয়ুয়েত পুরো কথা না বললেও, সবাই বুঝে গেলেন।
তার প্রেমিকা আন কো’এর সবচেয়ে কাছের মানুষের পরিচিত!
আন কো কে?
আনশান গ্রুপের উত্তরাধিকারিণী, সু কোম্পানির ভাগ্য নির্ধারণ তাঁর এক কথায়!
সু তুংলিয়ে উত্তেজনায় কাঁপছে, ‘‘হাওয়ুয়েত, সত্যি তো? দাদুকে ঠাট্টা করছো না?’’
সু হাওয়ুয়েত ভয়ার্ত মুখে, ‘‘সত্যি দাদু, আপনাকে কি আমি ঠাট্টা করব? এখনো প্রেমিকাকে বলিনি, তবে অন্তত ছয়-সাত ভাগ নিশ্চিত।’’
‘‘বাহ, আমার ছেলে, সত্যিই গর্বিত করেছো!’’
সু গোফু যেন শক্তি ফিরে পেলেন, সু গোচিয়াংকে অবজ্ঞাভরে দেখলেন।
তোমার মেয়ে যে-ই হোক, আমার ছেলে তো আনশান গ্রুপের উত্তরাধিকারিণীকে চেনে!
এ দু’জনের মধ্যে তুলনা হয় না।
সু জিযুয়েত চাইলেন না, সু হাওয়ুয়েত তার গৌরব কেড়ে নিক, প্রতিবাদ করলেন, ‘‘বড় বড় কথা বলো না! পরিচয় থাকলেই হবে? আনশান গ্রুপের অর্ডার এনে দেখাও আগে!’’
ওয়াং তাওও বিদ্রূপ করে বললেন, ‘‘আমি ভেবেছিলাম তুমি অনেক কিছু পারো। এখনও তো কিছু হয়নি, এসব বলে বড়াই করছো? যদি না পারো, তখন কী করবে?’’
‘‘তবে দেখা যাবে।’’
সু হাওয়ুয়েত নিশ্চিত গলায় বললেন, ‘‘আজই উ সেক্রেটারি ওয়ানফা বিল্ডিংয়ে এসেছেন, আমি এখনই গিয়ে ওনাকে কোম্পানির অবস্থা জানাবো।’’
‘‘দংহাই শহরে যা সম্ভব, তার জন্য কেন অযথা প্রদেশে ছুটতে হবে? আনশান গ্রুপের কন্যা বুদ্ধিমতী, বুঝবেন নিশ্চয়ই।’’
সু জিযুয়েত আর ওয়াং তাও চুপ, বোঝা গেল, সু হাওয়ুয়েত আগেই সব খবর জেনে প্রস্তুত হয়েই এসেছে।
সু তুংলিয়ে হেসে উঠলেন, ‘‘হাওয়ুয়েত, আজ তোমার একটু কষ্ট হচ্ছে, উ সেক্রেটারিকে ভালোভাবে আপ্যায়ন করো, পরে নিচের গয়নার দোকান থেকে দামি কিছু উপহার কিনে দিও, ঠিকমতো সম্মান দেখাবে, সব খরচ কোম্পানি দেবে।’’
সু হাওয়ুয়েত বিনীতভাবে বললেন, ‘‘দাদু, এ তো আমার কর্তব্য, আমি এখনই প্রস্তুতি নেই।’’
সু হাওয়ুয়েত চলে যাওয়ার পর, ওয়াং তাওও আর থাকতে চাননি, সেও চলে গেলেন।